লোড হচ্ছে...
আজঃ 04 July 2026 | সময়ঃ
সদ্যপ্রাপ্ত :
পুঁজিবাজারে আইপিও সংকট, বাড়ছে অর্থনীতির নীরব চাপ। কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকারি আইনজীবীদের অসহযোগিতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে অবস্থান ধর্মঘট কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি। জামালপুরে জেসমিন প্রকল্পের সেরা চর্চা বিষয়ক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত। ‎চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা–তিতাসের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত ৩০ প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধারকৃত ১০১ টি মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দিল চট্টগ্রামের এসপি মাসুদ। ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব প্রত্যাহার। সরাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযান: সঙ্ক্রাস বিরোধী আইনের আসামিসহ গ্রেফতার ৫ পথিকৃত সংস্থা ‘পেইজ' এর আয়োজনে কুমিল্লায় চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত। স্বাধীন সাংবাদিকতা বিরুদ্ধে হয়রানি মামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের মানববন্ধন। জরিমানা নয় সচেতনতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেলমেটবিহীন ৩৪ চালককে হেলমেট ক্রয় করিয়ে দিল ট্রাফিক পুলিশ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্লাজায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল কক্সবাজার সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক মিজান গুরুত্বর জখম-হাসপাতালে ভর্তি। সীতাকুণ্ড আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের ইউএনও ও ওসির সঙ্গে মতবিনিময়। খালের উপর সেতুতে ভয়াভহ ফাটল, বড় দুর্ঘটনা হওয়ার শংকা। চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবীরের মৃত্যুদণ্ড, বাকলিয়ার শিশু ধর্ষন মামলার রায়ও আজ। পেকুয়ায় বৈদ্যূতিক আগুনে পুড়ল বসতবাড়ি,ক্ষতি ৫ লক্ষ টাকা। বান্দরবানে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জয়পুরহাটে তরুণ-তরুণীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা শিল্পাঞ্চল একনেকে অনুমোদন।

স্কুল নয় যেন কোচিং সেন্টার: প্রাথমিকে পড়তে হয় মাসিক বেতন দিয়ে।

দৈনিক ভোরের কথা ডেস্ক
ছবির ক্যাপশন: সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: মো: রাকিবুল ইসলাম,

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো অনেক আগে থেকে নিষিদ্ধ থাকলে মানেন না ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ৮ জন শিক্ষকের ৬ জনই শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ান। এদের কয়েকজন আবার মধ্যাহ্ন বিরতিতে শিক্ষার্থীদের খাবার ও খেলাধুলার সুজোগ না দিয়ে ঐ সময় প্রাইভেট পড়ান। আবার কেউ ক্লাস না থাকার সময়ে প্রাইভেট পড়ান। ক্লাস টাইমের বাইরে শ্রেনী কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

তবে সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে ঐ বিদ্যালয়ের একটি সিদ্ধান্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে অধ্যয়ন করবে এটাই সরকারি নিয়ম। তবে সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়তো বাংলাদেশের একমাত্র স্কুল যেখানে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন দিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ মিলে খরচ করেন এবং কিছু টাকা দিয়ে দুজন প্যারা শিক্ষক রাখা হয়েছে, তাদের নামমাত্র কিছু বেতন দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক এর মধ্যে দুটি শিক্ষক দম্পতি রয়েছে। নাজমা আক্তার প্রধান শিক্ষক তিনি কোন প্রাইভেট পড়ান না, তবে কাউকে নিষেধও করেন না। অভিযোগ রয়েছে ঐ শিক্ষকদের কাছ থেকে নানা সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। এছাড়া সাহেবুল ইসলাম ও তাইফুন্নাহার দম্পতি প্রতিদিন সকালে ও ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে প্রাইভেট পড়ান। কাজী খালিদ হোসেন ও গুলশানারা আক্তার সকালে ও ছুটির পর প্রাইভেট পড়ান। সিনিয়র শিক্ষকদের দেখাদেখি রাবেয়া রুমা  ও জাহিদ খান  প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেছেন। একমাত্র লাবলী খানম প্রাইভেট পড়ান না। তবে অন্যদের দেখাদেখি তিনি যেকোন সময় শুরু করতে পারেন।

পরিক্ষায় ফেল করানো ও ক্লাস থেকে বের করা সহ নানা হুমকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হয়। কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা। তারা অনেক সময় প্রাইভেট শেষ করে হাজিরা দিয়ে চলে আসেন উপজেলা সদরে সেখানে চলে নানা খোশ গল্প। তাদের দুজনের  ক্লাস নেন দুজন প্যারা শিক্ষক আর তাদের হয়ে প্রাইভেট পড়ান তাদের স্ত্রীরা। বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কারনে প্রতি মাসেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

একজন অভিভাবক জানান, বাংলাদেশে এমন প্রাথমিক বিদ্যালয় নাই যেখানে মাসিক বেতন দিয়ে বাচ্চাদের পড়তে হয়। আবার জোর করে বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়নো হয়। এই স্কুল টা একটা পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হয়ে গেছে। দুই শিক্ষক দম্পতি ও তাদের বাচ্চাকাচ্চা মিলে  একদম যাচ্ছেতাই অবস্থা। প্রধান শিক্ষক অনেক কিছু দেখেও দেখেন না। আমারাও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাই না, কারন খালিদ স্যার স্থানীয় এবং সাহেবুল স্যার রাজনৈতিক প্রভাব খাটায়। সম্বব হলে বাচ্চাদের অন্য স্কুলে পড়াবো।

সিংহপ্রতাপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী খালিদ হোসেন বলেন, সবাই প্রাইভেট পড়ায়, তবে কেউ স্কুলে টাইমে পড়ায় না। আর আমাদের স্কুলে একজন প্যারা শিক্ষক আছে, কমিটির মাধ্যমে বাচ্চাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে তাকে বেতন দেওয়া হয়। আরেকজন আছে তাকে কোন বেতন দেওয়া হয় না। প্রাইভেট পড়ানোর সময় তাকে বলা হলে আজকের মত পড়াচ্ছেন বলে জানান।

এই বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তারকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেম উদ্দিন বলেন, শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর কোন নিয়ম নাই এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক বেতন নেওয়ার কোন বৈধতা নাই। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্তা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন,শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর নিয়ম নেই, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন জানান, এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন...

এ জাতীয় আরো খবর...
---------------------------------------------------------------------
20251001-014759
---------------------------------------------------------------------
img140-3
---------------------------------------------------------------------
img12-2